
যক্ষা
যক্ষা একটি পরিচিত বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ। তবে ক্ষেত্রবিশেষে যক্ষার জীবাণুযুক্ত ত্বকের ক্ষতের সংস্পর্শে এলে কিংবা সংক্রমিত গরুর দুধ খেয়েও কেউ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। যেকোনো লোক, যেকোনো সময়ে এ রোগ দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে। যারা অধিক পরিশ্রম করে, দুর্বল, স্যাতস্যাতে বা অস্বাস্থকর পরিবেশে বাস করে, অপুষ্টিতে ভোগে অথবা যক্ষা রোগীর সাথে বসবাস করে, তারা এ রোগে সহজে আক্রান্ত হয়। আমাদের অনেকের ধারণা, যক্ষা শুধু ফুসফুসের রোগ। আসলে ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল। যক্ষা অন্ত্র, হাড়, ফুসফুস এরকম দেহের প্রায় যেকোনো স্থানে হতে পারে। দেহে এ রোগের আক্রমণ ঘটলে সহজে এর লক্ষণ প্রকাশ পে না। যখন জীবাণুগুলো দেহের রোগ প্রতিরোধক শ্বেত রক্তকণিকা কে পরাস্ত করে দেহকে দুর্বল করে, তখনই এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
কারণ
সাধারণত Mycobacterium tuberculosis নামক এক ধরণের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে রোগ হয়। তবে Mycobacterium গনভুক্ত আরোও কিছু ব্যাকটিরিয়া যক্ষা সৃষ্টি হতে পারে। অস্বাস্থকর পরিবেশে বসবাস করলে অতি সহজে দেহে রোগ জীবাণুর বিস্তার ঘটে।
রোগ নির্ণয়
কফ পরীক্ষা, চামড়ার পরীক্ষা, সাইটো ও হিস্টোপ্যাথোলজি পরীক্ষা এবং এক্স-রের সাহায্যে এ রোগ নির্ণয় করা যায়। তবে যক্ষায় ঠিক কোন অঙ্গটি আক্রান্ত হয়েছে তার উপরে নির্ভর করবে কোন পরীক্ষাটি করতে হবে। বর্তমানে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে রোগটি নিশ্চিতভাবে নির্ণয় করা যায় কিনা তা নিয়ে গবেষণা চলছে। বর্তমানে আমাদের দেশে রোগীর কফসহ বিভিন্ন নমুনায় যক্ষা জীবাণু আছে কি না তা নির্ণয়ের জন্য DNA ভিত্তিক পরীক্ষা চালু হয়েছে।
লক্ষণ
১. রোগীর ওজন কমতে থাকে, আস্তে আস্তে শরীর দুর্বল হয়।
২. সাধারণত তিন সপ্তাহের বেশি কাশি থাকে।
৩. বুকে পিঠে ব্যাথা হয়।
৪. খুসখুসে কাশি হয় এবং কখনো কখনো কাশির সাথে রক্ত বের হয়।
৫. অর্জীন ও পেটের পীড়া দেখা দেয়।
৬. রাতে ঘাম হয়, বিকেলের দিকে জ্বর আসে।
৭. দেহের তাপমাত্রা খুব বেশি বাড়ে না।
প্রতিকার
১. রোগীর ব্যবহারের সব কিছু পৃথক রাখা।
২. রোগীর কফ বা থুতু মাটিতে পুঁতে ফেলা।
৩. রোগীর জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা ও পরিমিত খাদ্যের ব্যবস্থা করা।
৪. ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করা।
৫. এ
রোগটির চিকিৎসা দীর্ঘ মেয়াদি, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগ নিবারণের নিয়মগুলো কঠোরভাবে মেনে চলা।
৬. প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে বা সানাটোরিয়ামে পাঠাতে হবে।
৭. ডাক্তারের নির্দেশ ব্যাতিত কোনো অবস্থায় ঔষধ সেবন বন্ধ না করা।
প্রতিরোধ
১. যক্ষা রোগের আক্রমণ থেকে মুক্তি পেতে হলে শিশুদের যক্ষা প্রতিষেধক বিসিজি টিকা দিতে হবে।শিশুর জন্মের পর থেকে এক বছর বয়সের মধ্যে এ টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়। বিসিজি টিকা শিশুদের প্রাণঘাতী যক্ষা থেকে সুরক্ষা দিলেও বড় হয়ে গেলে তা সাধারণত আর কার্যকর থাকে না। তাই শিশু বয়সে টিকা দিলেও তা আজীবন যক্ষা থেকে সুরক্ষা দেয় না।
২. বর্তমানে দেশের বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে এ টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
No comments:
Post a Comment