
শ্বেত রক্তকণিকা
শ্বেত রক্তকণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। শ্বেত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন। হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা, ইংরেজিতে
White Blood Cell বা WBC বলে। শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা লোহিত রক্ত কণিকার তুলনায় অনেক কম। এরা এমিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে। ফ্যাগোসাইটোসিস পক্রিয়ায় এটি জীবাণুকে ধ্বংস করে। শ্বেত রক্তকণিকা গুলো রক্ত রসের মধ্যে দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে। রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে দ্রুত শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে। মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে।
অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়। শ্বেত রক্তকণিকায় DNA থাকে।
প্রকার : সাইটোপ্লাজমে দানার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি অনুসারে শ্বেত রক্তকণিকাকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা :- ১. এগ্রানুলোসাইট বা দানাবিহীন ২. গ্রানুলোসাইট বা দানাযুক্ত।
১. এগ্রানুলোসাইট : এ ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা গুলো সাইটোপ্লাজম দানহীন ও স্বচ্ছ। এগ্রানুলোসাইট শ্বেত রক্তকণিকা দুই রকমের, যেমন :- *লিম্ফোসাইট; *মনোসাইট। দেহের লিম্ফোনোড, টন্সিল ইত্যাদি অংশে এরা তৈরী হয়। লিম্ফোসাইটগুলো বড় নিউক্লিয়াসযুক্ত ছোট কণিকা। মনোসাইট ছোট, ডিম্বাকার ও বৃক্কাকার নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট বড় কণিকা। মনোসাইট ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করে।
২. গ্রানুলোসাইট : এদের সাইটোপ্লাজম সূক্ষ দানাযুক্ত গ্রানুলোসাইট শ্বেত রক্তকণিকা গুলো নিউক্লিয়াসের আকৃতির ভিত্তিতে তিন প্রকার যেমন :- *নিউট্রোফিল; *ইউসিনোফিল; *বেসোফিল।
নিউট্রোফিল ফ্যাগোসাইটোসিস পক্রিয়ায় জীবাণু বক্ষন করে। ইউসিনোফিল ও বেসোফিল হিস্টামিন নামক রাসায়নিক পদার্থ দেহে এলার্জি প্রতিরোধ করে। বেসোফিল হেপারিন নির্সিত করে রক্তকে রক্তবাহিকার ভেতরে জমাট বাঁধতে বাধা দেয়।
No comments:
Post a Comment