
ডায়রিয়া
যদি দিনে অন্তত তিনবার পাতলা পায়খানা হয়, তবে তার ডায়রিয়া হয়েছে বলে মনে করতে হবে। সব বয়সী মানুষের ডায়রিয়া হতে পারে তবে সাধারণত শিশুরা এতে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পরে। ডায়রিয়া হলে রোগীর দেহ থেকে পানি এবং লবন বেরিয়ে যায়, দেহের পানি কমে যায় এবং রোগী দুর্বল হয়ে পরে। ফলে দেহে পানি এবং লবণের স্বল্পতা দেখা দেয়। এ সময় যথাযথ চিকিৎসা করা না হলে রোগি মারাও যেতে পারে।ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, প্রোটোজোয়া ইত্যাদি জীবাণু দ্বারা ডায়রিয়া হতে পারে।রোটা ভাইরাস ডায়রিয়ার জন্য দায়ী জীবাণুগুলোর মধ্যে অন্যতম।দূষিত পানি পান করলে, বাসি-পচা, নোংরা খাবার খেলে, অপরিছন্ন থালা-বাসন ব্যবহার করলে, অপরিষ্কার হাতে খাবার খেলে এ রোগ হওয়ার আশংকা খুব বেশি থাকে।
ডায়রিয়ার উপসর্গ হলো ঘন ঘন পাতলা-পায়খানা হওয়া, সীমিত আকারের চেয়ে অধিক পরিমানে বমি হওয়া, খুব বেশি পিপাসা লাগা, মুখ ও জিহবা শুকিয়ে যাওয়া, দেহের চামড়া কুঁচকে যাওয়া, চোখ বসে যাওয়া ইত্যাদি। এ সময় রোগী খাবার বা পানিয় ঠিক মতো খেতে চায় না এবং শিশুর মাথার চাঁদি বা তালু বসে যায়।আস্তে আস্তে রোগী নিস্তেজ হয়ে পরে।
ডায়রিয়া রোগের লক্ষণ দেখা দিলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোগীকে খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। সম্প্রতি শস্য স্যালাইন নাম আর একটি স্যালাইন উদ্ভাবিত হয়েছে। এক লিটার পানি, ৫০ গ্রাম চালের গুঁড়া, এক চিমটি লবন মিশিয়ে বাড়িতে এ স্যালাইন তৈরী করা যাও। স্যালাইন ব্যবহারের সময় যে বিষয়গুলোর উপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন তা হলো :- পাতলা পায়খানা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত রোগীকে স্যালাইন খাওয়াতে হবে, রোগীর বমি হলেও স্যালাইন খাওয়া বন্ধ করা যাবে না, শিশু রোগীকে বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। রোগীকে স্যালাইনের পাশাপাশি নিয়মিত অন্যানো খাবারও খেতে হবে। ডায়রিয়া সেরে যাওয়ার পরও অন্তত এক সপ্তাহ রোগীকে বাড়তি খাবার দিতে হবে।
No comments:
Post a Comment