হরিতকী : বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ। বাংলাদেশ ও ভারতে এর আদি নিবাস।
ভারতবর্ষের বনাঞ্চলে বা গ্রামাঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে এ গাছ দেখা যায়। উচ্চতা ৪০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে পাতা ঝরে নতুন পাতা গজাতে থাকে।
পাতা সরল, একান্তর, উপবৃত্তাকার, সবৃন্তক। হরিতকী তিতা গন্ধ বিশিষ্ট। এটি
ট্যানিন, এ্যামাইনো এসিড, ফ্রুকটোজ, সাকসিনিক এসিড এবং বিটা সাইটোস্টেরল সমৃদ্ধ। ফুল শ্বেতবর্ণ ও ছোট হয়। ফল লম্বাকার হালকা খাঁজযুক্ত। বাকল গাঢ় বাদামি। বাকলে লম্বা ফাটল থাকে। পাতা লম্বা-চ্যাপ্টা, কিনার চোখা, লম্বায় পাঁচ-ছয় ইঞ্চি।
ব্যবহার্য অংশ : ফল ও কাঠ
ব্যবহার : আয়ুবের্দিক ঔষধ ত্রিফলার অন্যতম ফল হরিতকী । এই কাঠ ফ্রেম, খুঁটি, আসবাব তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। হরিতকী
ফল চূর্ণ করে একটি লবণ মিশিয়ে সেবন করলে অর্শরোগ নিরাময় হয়। হরিতকী চূর্ণ পাইপে ভরে ধূমপান করলে হাঁপানি উপশম হয়। যে কোনো ক্ষতে হরিতকী পোড়া ছাইয়ের সাথে মাখন মিশিয়ে লাগালে ঘা সেরে যায়।
চিনি ও পানির সাথে হরিতকী চূর্ণ ব্যবহার করলে চোখ উঠা ভালো হয়।
কাঁচা ফল আমাশয় এবং পাকাফল রক্তশূন্যতা পিত্তরোগ, হৃদরোগ, গেটেবাত ও গলা ক্ষতে ব্যবহার্য। ফলচূর্ণ দন্তরোগ উপশমে ব্যবহৃত
হয়। এটি
রেচক, কষাকারক, পিচ্ছিলকারক, পরজীবীনাশক, পরিবর্তনসাধক, অন্ত্রের খিঁচুনি রোধক এবং স্নায়বিক শক্তিবর্ধক।
হরিতকী বলবৃদ্ধিকারক, জীবনীশক্তি বৃদ্ধিকারক ও বার্ধক্য নিবারক।

No comments:
Post a Comment