
গ্যাস্ট্রিক ও পেপটিক আলসার
যেকোনো এপিথেলিয়াম বা আবরণী টিস্যুর একধরণের ক্ষতকে আলসার বলে। পেপটিক আলসার বলতে খাদ্যনালির কোনো অংশের আলসার বোঝায়। সেটি যদি পাকস্থলীতে হয় তাহলে তাকে গ্যাস্ট্রিক আলসার বলে আর যদি ডিউডেনামে হয় তাহলে তাকে ডিওডেনাল আলসার বলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যগ্রহনে অনিয়ম হলে পাকস্থলীতে অম্লের আধিক্য ঘটে এবং অনেক দিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলে এই অম্ল বা এসিড দিয়ে পাকস্থলী বা অন্ত্রে ক্ষতের সৃষ্টি হয়ে পেপটিক আলসার হতে পারে। গবেষণায় জানা গেছে, খাদ্যে অনিয়ম, ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া, বিশনগ্নতা বা উৎকণ্ঠা ইত্যাদি পেপটিক আলসারের (পেপটিক আলসার বলতে মূলত খাদ্যনালির আলসারকে বোঝানো হয়) নিয়ামক হলেও অন্যতম প্রধান কারণ Helicobacter Pylori নামে একটি ব্যাকটেরিয়া।আগে ভাবা হতো, পাকস্থলীর তীব্র হাইড্রোক্লোরিক এসিডে কোনো ব্যাকটেরিয়া টিকে থাকতে পারে না। উল্লেখ্য যে, এই ব্যাকটেরিয়া শুধু আলসার করে তাই নয়, এ থেকে পাকস্থলীর ক্যান্সারও হতে পারে।
পেপটিক আলসার রোগে সাধারণত পেটের ঠিক মাঝ বরাবর, নাভির একটু উপরে একঘেয়ে ব্যাথা অনুভূত হয়। খালি পেটে বা অতিরিক্ত তেল জাতীয় খাদ্য খেলে ব্যাথা বেড়ে যায়।আলসার মারাত্মক হলে বমি হতে পারে।কখনো কখনো বমি এবং মলের সাথে রক্ত নির্গত হয়। এন্ডোস্কোপি বা বেরিয়াম এক্স-রের মাধ্যমে এ রোগ নির্ণয় করা যায়।
এ রোগ থেকে দূরে থাকতে হলে যা করতে হবে তা হলো :- নিয়মিত সহজপাচ্চ খাদ্য গ্রহণ করা, অধিক তেল এবং মশলাযুক্ত গুরুপাক খাদ্য পরিহার করা। ফুটানো দুধ, পনির এবং কলা খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়। নিয়মিত খাদ্য গ্রহণ করে, কফি, সিগারেট ইত্যাদি উত্তেজক পদার্থ গ্রহণ থেকে বিরত থেকে, প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিয়ে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। যদি কেউ Helicobacter Pylori দিয়ে সংক্রমিত হয়, তার ক্ষেত্রে উপরোক্ত নিয়ম পালনে রোগ পুরোপুরি ভালো হবে না। তখন পূর্ণ আরোগ্যের জন্য নিয়ম মেনে আহার করার পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক সঠিক ডোজে সঠিক এন্টিবায়োটিক ঔষধ খেতে হবে।
No comments:
Post a Comment