
সুষম
খাদ্য
সুস্থ, সবল ও উন্নত জীবনযাপনের জন্য সুষম খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। সুষম খাদ্যে একজন মানুষের বিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদনের সামর্থ থাকতে হবে।
যে খাদ্য গ্রহণ করলে দেহে স্বাভাবিক কাজ কর্মের জন্য পর্যাপ্ত পরিমান ক্যালোরি বা শক্তি পাওয়া যায় তাকে মূলত সুষম খাদ্য বলা হয়ে থাকে। একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ পুরুষের প্রতিদিন প্রায় ২৫০০ কিলো ক্যালোরি এবং নারীর জন্য ২০০০ কিলো ক্যালোরি শক্তির প্রয়োজন হয়। এই শক্তি আমরা খাদ্য থেকে পেয়ে থাকি। তাই আমাদের খাদ্য তালিকায় অন্যান্য খাদ্যের পাশাপাশি সুষম খাদ্যটিও রাখা দরকার যাতে করে সেই খাদ্য থেকে আমাদের পর্যাপ্ত পরিমান শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
সুষম খাদ্য তালিকা তৈরি করার সময় মানুষের বয়স, কি রকম কাজ করে অর্থাৎ অধিক পরিশ্রমী, মাঝারি পরিশ্রমী নাকি স্বল্প পরিশ্রমী ইত্যাদি বিবেচনা করতে হবে। শিশু ও বৃদ্ধদের খাদ্য তালিকায় সহজপ্রাচ্য এবং চর্বি বর্জিত খাদ্যের প্রাধান্য থাকতে হবে। বাড়ন্ত শিশুদের ক্ষেত্রে প্রোটিন জাতীয় খাদ্য এবং হাড় ও দাঁতের বৃদ্ধির জন্য ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস সমৃদ্ধ খাদ্য রাখতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট সুষম খাদ্য প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না অর্থাৎ সুষম খাদ্য তৈরি করে নিতে হয়।
সুষম খাদ্যের আবশ্যিক বৈশিষ্ট সমূহ :-
১. একজন মানুষের বিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমান শক্তি উৎপাদনের সামর্থ থাকতে হবে। অর্থাৎ পূর্ণ বিশ্রামরত অবস্থায় একজন মানুষের দেহে অভ্যন্তরে সংঘঠিত জৈবিক কার্যাবলির জন্য প্রয়োজনীয় পরিমান শক্তি উপাদানের সামর্থ থাকতে হবে।
২. শর্করা, আমিষ ও চর্বি জাতীয় খাদ্য প্রয়োজন অনুসারে পরিমান মতো গ্রহণ করতে হবে।
৩. খাদ্যে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও রাফেজ বা সেলুলোজ সরবরাহের জন্য সুষম খাদ্য তালিকায় ফল ও টাটকা শাক-সবজি থাকতে হবে।রাফেজ যুক্ত খাবার শরীরের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ধারণা করা হয়, আঁশযুক্ত (রাফেজ) খাবার খাদ্য-নালির ক্যান্সারের আশংকা অনেকাংশে হ্রাস করে। তাছাড়াও আঁশযুক্ত খাবার স্থূলতা হ্রাস ও ক্ষুধা প্রবণতা হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
বিঃদ্রঃ রাফেজ বলতে ফলমূল ও শাক-সবজির অপাচ্য অংশকে বোঝায়।
৪. খাদ্যে অবশ্যই প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি ও খনিজ লবন থাকতে হবে। একজন মানুষের দৈনিক কত লিটার পানি খাওয়া প্রয়োজন তা নির্ভর করে ব্যক্তির দৈহিক পরিশ্রমের উপর।
৫. সুষম খাদ্য অবশ্যই সহজ পাচ্চ হতে হবে।
No comments:
Post a Comment